অদ্য ১৭ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি-এর বাগেরহাট শুভাগমন উপলক্ষে বাগেরহাট অফিসার্স ফোরাম-এর আয়োজনে আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা Dr. Md. Faridul Islam
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাগেরহাটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক শিক্ষণ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, বাগেরহাটের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বিবেচনায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। পাশাপাশি শিক্ষা, কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পায়ন, পর্যটন, যোগাযোগ অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, নদীভিত্তিক অর্থনীতি এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের মাধ্যমে বাগেরহাটে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সুন্দরবন, পর্যটন সম্ভাবনা ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে এ জেলাকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিনিয়োগবান্ধব জেলায় রূপান্তরে সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, পর্যটন, যোগাযোগ অবকাঠামো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বাগেরহাটের উন্নয়নের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে তিনি জাতীয় সংসদ ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তিনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, নদী ও জলপ্রবাহের স্বাভাবিকতা রক্ষা, বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষা করা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, জাতীয় অর্থনীতি এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, বাগেরহাট।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিএ রফিকুল ইসলাম জগলু, চেয়ারম্যান, লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন। তিনি বলেন, বাগেরহাটের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। তিনি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং সুন্দরবনভিত্তিক সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে বাগেরহাটকে একটি স্মার্ট, দক্ষ ও টেকসই উন্নয়নের মডেল জেলায় পরিণত করতে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ কামনা করেন।
সভায় জনাব জিল্লুর রহমান, প্রতিনিধি, UNDP বাংলাদেশ, সুন্দরবনভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করেন এবং সুন্দরবন সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ও বাগেরহাটের টেকসই অগ্রযাত্রা বিষয়ে একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, বাগেরহাট; ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জ; জেলা পুলিশ সুপার, বাগেরহাট; বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বাগেরহাটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সুন্দরবনভিত্তিক টেকসই অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। সভার শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক, পরিবেশ-সহনশীল ও টেকসই বাগেরহাট গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।